CHAT WITH ME

মোয়াজ্জেম হোসেন, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলবাসীর বেশিরভাগই বাংলাদেশে থাকতে চান। আর ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের কেউই দেশে আসতে চান না।
 
সোমবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) পর্যায়ের বৈঠকে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এ বৈঠক হয়।
 
বৈঠক শেষে দেশে ফিরে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান লালমনিরহাটের ডিসি হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
 
বুড়িমারী স্থলবন্দরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, 'ভারতের কুচবিহার জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশি ৫১ ছিটমহলে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার নাগরিককে জনগণনায় পাওয়া গেছে। এদের কেউই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন ফরম পূরণ করেননি। এতে বোঝা যাচ্ছে, কেউ বাংলাদেশে আসছে না।'
 
লালমনিরহাটের ডিসি হাবিবুর রহমান জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলে এবারের জনগণায় ৪৪ হাজার ৫৪৫ জন পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৯৭৯ জন ভারতের নাগরিক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
 
তিনি আরও বলেন, 'লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড় জেলার অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১০৭টি ছিটমহলের ৪৪ হাজার নাগরিকের মধ্যে সনাতনধর্মীয় ৮১৬ জন ও মুসলিম ১৬৩ জন নাগরিক ভারতে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনপত্র পূরণ করেছে।'
 
তবে নীলফামারী জেলার অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ৪টি ছিটমহল থেকে কেউই ভারতে যাচ্ছে না জানিয়ে ডিসি হাবিবুর রহমান বলেন, 'এ ছিটমহলগুলোতে যৌথ জনগণনায় ৫৪৫ জন নাগরিক পাওয়া গেছে।'
 
এসব তথ্যের হার্ডকপি গত ১৬ জুলাই হস্তান্তর হলেও আজকের বৈঠকে সফটকপি সরবরাহ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান লালমনিরহাটের ডিসি হাবিবুর রহমান।
 
এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, 'এসবের মধ্যে কিছু নামের বানান ভুল রয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালের যৌথ হেডকাউন্টিংয়ে পর কেউ কেউ ছিটমহলের বাইরে চলে যাওয়ায় কিছু তথ্যের গড়মিল রয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই ঢাকায় জয়েন্ট বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠকে বসার আগেই এসব বিষয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
 
এছাড়া ভারতগমনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অস্থাবর সম্পত্তি পরিবহন ও ট্রাভেল পাস ইস্যুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান লালমনিরহাটের ডিসি হাবিবুর রহমান।
 
ভারতের কুচবিহার জেলার ভারপ্রাপ্ত এডিএম চিরঞ্জীব ঘোষের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে লালমনিরহাটের ডিসি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সিস্টেম এনালাইসিস্ট যতন কুমার সাহা, সিনিয়র প্রোগ্রামার মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রোগ্রামার আহসান হাবীব এবং পরিসংখ্যান ব্যুরোর কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক তহিদুল ইসলাম।
 
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় শুরু হবে আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে।

Advertisement

0 comments:

Post a Comment

 
Top