মডেল ও অভিনয়শিল্পী মুমতাহিনা টয়া এবার মেরিল-প্রথম আলো
পুরস্কার অনুষ্ঠানে সুতি শাড়ি পরেই হাজির হয়েছিলেন। জানালেন, সুতির শাড়ি তাঁর সব সময়ই প্রিয়। আরামদায়ক আর ঐতিহ্যবাহী বলেই নাকি এটি এত পছন্দ করেন। সুতি শাড়ির সঙ্গে কখনো চিরায়ত বাঙালি সাজ আবার কখনো ফিউশন আনেন তিনি। মূলত হেয়ার স্টাইল আর গয়নার ধরনের মাধ্যমেই এটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়, বললেন টয়া। আরও যোগ করলেন, ‘বোট নেক, হাইনেক, স্লিভলেস নানা কাটের ও নানা রকমের ব্লাউজ পরেও আমি সুতির শাড়ির মধ্যে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করি।’
কথা হলো আড়ংয়ের ফ্যাশন ডিজাইনার শাহীনা রাব্বির সঙ্গে। তিনি জানালেন, আড়ং এবার সুতি শাড়িতে কাঁথা স্টিচ, ফুলেল ও জামদানি প্রিন্ট, কুচি প্রিন্ট, অ্যাপ্লিক, গুজরাটি কাজের নকশা করেছে। এ ছাড়াও তারা এনেছে কোটা, নেট সুতি ও ফাইন সুতির কিছু শাড়ি। সুতির মতোই দেখাবে এবং আরামদায়ক এমন হাফ সিল্কের শাড়িও রয়েছে তাদের সংগ্রহে।
গয়নায় বৈচিত্র্য:
ধাতব, মাটি, কাঠ, পুঁতি, কাপড়—সব ধরনের গয়নাই মানিয়ে যায় সুতির শাড়ির সঙ্গে। শুধু শাড়ির ধরন আর কোন ধরনের অনুষ্ঠানে পরছেন সেটি খেয়াল রাখলেই হলো। লিপি খন্দকার বলেন, বিয়ের দাওয়াতে চওড়া সোনালি পাড়ের সাদা সুতির শাড়ির সঙ্গে সোনার গয়না পরে নিতে পারেন। কাতান বা অন্য যেকোনো শাড়ির চেয়ে কম জমকালো দেখাবে না।
শাহীনা রাব্বির মতে, একই শাড়ির সঙ্গে শুধু গয়না পরিবর্তন করলেই সাজে অনেকটা পার্থক্য চলে আসে। এভাবে একই শাড়ি বেশ কয়েকবার পরেও নতুন লুক আনতে পারেন। তরুণীরা আজকাল সুতির শাড়ির সঙ্গে নানা রকম ফ্যাশন জুয়েলারি পরে থাকেন। কোনো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে কাচের চুড়ি, সোনা, রুপা বা মাটির গয়নাও পরা যায়।
বাহারি ব্লাউজের সঙ্গে:শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজটা একটু অন্য রকম পরার পরামর্শ দেন শাহীনা রাব্বি। বিপরীত রঙের ব্লাউজ পরার ফ্যাশন চলছে এখন, তাই শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে যায় এমন কোনো রঙের কাতান বা সিল্ক কাপড়ের ব্লাউজ পরলে একটা জমকালো ভাব আসবে। ব্লকপ্রিন্ট, চুন্দ্রি প্রিন্ট, বাটিক, হাতের কাজ করা বা হাতে বোনা তাঁতের কাপড়ের ব্লাউজের মাধ্যমেও সুতির শাড়ির সঙ্গে স্টাইলিশ লুক আনা সম্ভব। ব্লাউজের কাটিংয়েও থাকা চাই বৈচিত্র্য।
যেমন হবে সাজগোজ:অনেকের ধারণা, সুতির শাড়ি কেবল সাদামাটাভাবে উপস্থাপন করলেই ভালো দেখাবে; দিনের বেলার ঘরোয়া অনুষ্ঠানেই শুধু এটি মানায়। কিন্তু সঠিক অনুষঙ্গ ও সাজের মাধ্যমে এটি যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানেই পরার উপযোগী করে তোলা যায়। বলছিলেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। এর জন্য মেকআপ যে খুব জমকালো হতে হবে তা নয়। পার্টিতে সুতি শাড়ির সঙ্গে খুব আকর্ষণীয় একটি ব্লাউজ পরা যেতে পারে, সঙ্গে গয়নাগুলো একটু পুরোনো ধাঁচের বাছাই করা যেতে পারে। একদম ছিমছাম লুকের জন্য মুখে একটু কমপ্যাক্ট পাউডার বুলিয়ে নেওয়ার পর হালকা রঙের ব্লাশন ব্যবহার করা যেতে পারে। টেনে আইলাইনার বা কাজল দেওয়া যেতে পারে, পাপড়িতে মাসকারা ব্যবহারে সাজটা আরও ফুটে উঠবে। শাড়ির রং থেকে যেকোনো একটি রং নিয়ে অথবা ন্যাচারাল টোনের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে হবে। শাড়ি যদি হালকা রঙের হয় এবং চোখে যদি শুধু কাজল ও মাসকারা ব্যবহার করা হয়, তখন লিপস্টিক একটু গাঢ় রঙের হলেও মন্দ লাগবে না, জানালেন আফরোজা। তাঁর মতে, বিভিন্ন রকমের বেণি ও সাইড খোঁপা সুতি শাড়ির সঙ্গে ভালো লাগবে। কথা হলো পারসোনার পরিচালক নুজহাত খানের সঙ্গে, সুতির শাড়ির সঙ্গে মেকআপটা খুব চড়া না করারই পরামর্শ দেন তিনি। ম্যাট মেকআপেই ভালো দেখাবে। কাজল ও রং-বেরঙের লাইনার ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠোঁট হালকা কমলা, গোলাপি—এ ধরনের রঙে রাঙাতে পারেন। মোট কথা, সুতির শাড়ির সঙ্গে সাজগোজ হওয়া চাই খুব স্নিগ্ধ।





0 comments:
Post a Comment